বুথ-ফেরত জরিপ জরিপ নিয়ে বিশ্লেষকদের মত হচ্ছে- একেক চ্যানেল একেক রকম সম্ভাব্য ফল প্রকাশ করায় বিভ্রান্তিটা আরো বেশি প্রকট হয়েছে। কোন কোন চ্যানেল বলেছে, এনডিএ জোট এককভাবে সরকার গঠন করবে। কেউ বলেছে, ঝুলন্ত পার্লামেন্ট হবে। আবার কেউ কেউ বলেছে, জোট ছাড়াই বিজেপি সরকার গঠন করতে পারবে।
জরিপের ফলাফল বিশ্লেষনে দেখা যায়, চ্যানেল এবিপি নিউজ বলেছে, বিজেপি পাবে ২৮১, কংগ্রেস পাবে ৯৭ বাকিরা পাবে ১৬৫। সিএনএন আইবিএন বলেছে, বিজেপি পাবে ২৩৬ কংগ্রেস পাবে ৭৭ বাকিরা ১৭০, টাইম নাও বলেছে বিজেপি জোট পাবে ২৫৭, কংগ্রেস জোট পাবে ১৩৫ বাকিরা পাবে ১৫১। টুডে সিসিরো বলেছে, বিজেপি জোট ২৭২, কংগ্রেস জোট ১১৫ বাকিরা পাবে ১৫৬। নিউজ ২৪ বলেছে, বিজেপি জোট পাবে ৩৪০ কংগ্রেস জোট ৭০ বাকিরা ১৩৩। আরো বেশ কিছু টেলিভিশন বুথ-ফেরত জরিপ প্রকাশ করেছে কিন্তু কোনটার সাথে কোন টারই মিল নেই।
এ জরিপে বিজেপিকে খুশী করলেও কংগ্রেস এটা প্রত্যাখ্যান করেছে। কংগ্রেস মুখপাত্র শাকিল আহমেদ বলেন, এক্সিট পোল সংক্রান্ত কোন আলোচনাতেই তারা যাবে না। তিনি বলেন, তারা তো কংগ্রেসকে গত নির্বাচনে ৬৭টি আসন দিয়েছিল। কংগ্রেস জরিপ বাতিলের দাবি করে বলেছে, জরিপের ব্যাপক পার্থক্য প্রমাণ করে এটা সঠিক হয়নি।
এর আগের নির্বাচনগুলোর জরিপ পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, ভারতে বুথ ফেরত জরিপ প্রকাশ শুরু হওয়ার পর কোন জরিপই সঠিক হয়নি। কোন কোন ক্ষেত্রে উল্টো হয়েছে। তাই ভারতের অনেক সিনিয়র স্ংাবাদিক এবারের এক্সিট পোলকে সাংবাদিকদের জন্যে একটি গ্রহণযোগ্যতার কঠিন পরীক্ষা বলে মনে করছেন।
বিশিষ্ট রাজনৈতিক ভাষ্যকার গৌতম লাহিড়ী মনে করেন, ব্যাপক ভিন্নতা থাকার কারণে এ জরিপ নিয়ে এক ধরনের বিভ্রান্তি তো আছেই। কারণ ৯৮ সাল থেকে যত বুথ-ফেরত ফল প্রকাশ করা হয়েছে কোনটাই সঠিক হয়নি। তিনি নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলো জনগণের সামনে পরীক্ষা দিয়েছে এবং এবার সাংবাদিকদের পরীক্ষা দেয়ার পালা। এবারও যদি জরিপ সঠিক না হয় তা হলে সাংবাদিকদের প্রশ্নের সম্মুখীন করবে। তিনি বলেন, জরিপ শেয়ারবাজারসহ বিভিন্ন কিছুতে প্রভাব ফেলে।
অপরদিকে প্রখ্যাত জরিপ বিশেষজ্ঞ সন্দীপ শাস্ত্রীর মতে, বিভিন্ন কারণে জরিপে পার্থক্য হতে পারে। হতে পারে পদ্ধতিগত কারণে, সাক্ষাৎকার গ্রহণে ত্রুটি হতে পারে বলেও জরিপের ফলাফল অনেক সময় উল্টো হয়ে যায়।
No comments:
Post a Comment
Thanks for your Comment.